ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেরিতে হলেও সত্যি সামনে আসবেই শামীমা পারভীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০৭ ১৪:৫৮:১৩
দেরিতে হলেও সত্যি সামনে আসবেই শামীমা পারভীনের দেরিতে হলেও সত্যি সামনে আসবেই শামীমা পারভীনের
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার নতুন নারী পুলিশ সুপার নিয়োগ নিয়ে নেটদুনিয়ায় এখন তর্কের ঝড়। কেউ উচ্ছ্বসিত, কেউ প্রশ্ন তুলছেন। কেউ প্রশংসা করছেন, কেউ সমালোচনা করছেন।

কিন্তু এই শোরগোলের ভেতরে চাপা পড়ে যাচ্ছে এক মেধাবী নারী পুলিশ কর্মকর্তার  দীর্ঘ ১৫ বছরের নীরব বঞ্চনার ইতিহাস—যার গল্পটা পর্দার আড়ালে থেকে গেছে। 

বিসিএস ২৫তম ব্যাচের একজন চৌকস কর্মকর্তা হয়েও শামীমা পারভীনের দেড় দশক ধরে "পর্দার আড়ালে" বা কোণঠাসা থাকার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আদর্শিক ভিন্নতা।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেন তাকে নিগৃহীত হতে হয়েছিল?
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো কেটেছে অদৃশ্য এক চাপের মধ্যে। 

কারণ-তার রাজনৈতিক পরিচয়। বিএনপি ঘরানার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাকে প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।

শামীমা পারভীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে কোনো কর্মকর্তার অতীত রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যদি তাদের আদর্শের সাথে না মিলত, তবে তাকে "অবিশ্বস্ত" হিসেবে গণ্য করা হতো।

আর তাঁর স্বামী রকিবুল ইসলাম বকুল বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা। এই একটিমাত্র ‘ট্যাগ’-তার পুরো ক্যারিয়ারের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছে। মেধার ওপর প্রতিহিংসার খড়গ।

যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর তিনি পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রশাসনের ভেতরে তাঁকে একপ্রকার ‘অচ্ছুত’ করে রাখা হয়েছিল।

তাকে বছরের পর বছর পুলিশ সদরদপ্তরের (PHQ) মতো ইউনিটগুলোতে এমন সব ডেস্কে রাখা হয়েছিল, যেগুলোকে পুলিশের ভাষায় 'ডাম্পিং পোস্টিং' বলা হয়।

একজন মেধাবী ক্যাডার কর্মকর্তার ক্যারিয়ারকে এভাবে স্থবির করে রাখাই ছিল সে সময়ের প্রশাসনের কৌশলী বঞ্চনা। 

যারা আজ নিরপেক্ষতার কথা বলে প্রশ্ন তুলছেন-গত ১৫ বছর কোথায় ছিলেন? যখন মেধাবীদের সরিয়ে রেখে চাটুকারদের জায়গা দেয়া হচ্ছিল, তখন সেই ‘নীতিবোধ’ কোথায় ছিল?

শামীমা পারভীনদের মতো কর্মকর্তারা একটা জিনিস প্রমাণ করেন মেধা, ধৈর্য আর সময়—এই তিনটা থাকলে ন্যায়বিচার দেরিতে হলেও নিশ্চয় আসবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : nafizhasan889900@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ